প্রেমের ফাঁদে (পূর্ণদৈর্ঘ্য)

ছেলেটা এতক্ষন ধরে পিছু নিয়েছে।মতলবটা কি এই ছেলের?এতক্ষনতো কিছুই মনে হয়নি।কিন্তু,এখনতো বেশ ভয় করছে।আকাশের অবস্থা ভাল
না।যখন তখন বৃষ্টি আসতে পারে।তার উপর সামনে এত লম্বা একটা ব্রিজ।সবসময় প্রায় ফাকাই থাকে।কি করা যায় এখন?
,
আইডিয়া!!!
,
ছেলেটাকে সামনে দিয়ে দেই।তাহলে আমার চোখের সামনে থাকবে।
যাক বাবা,ছেলেটারওতো দেখি ভীষন তাড়া।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলা দরকার,তাহলে সবকিছু একবার রিফ্রেশ হবে।
-আআআ.....।(আরে এ কি করলাম?)(আমি)
-আরে, এসব কি?(ছেলেটি)
-এসব কি দেখতে পাচ্ছেন না!একটা মেয়ে বিপদে পড়েছে,তাকে সাহায্য করছেন!
-সরি্য, আমি মেয়েদেরকে সাহায্য করি না।
-আআ...তা একথা বলতে আবার ছাতা সরাতে হয় নাকি?আজব তো!!আর আপনি কেন মেয়েদেরকে সাহায্য করতে চান না?
-কারন হচ্ছে,আপনাদের সাহায্য করলে আপনারা তা স্বীকার করতে চান না।আর আমার ছাতাটাও অনেক ছোট।
-হুম..নিজেরা মনে হয় ধোয়া তুলসি পাতা!!এত বড় হয়ে গেছেন এখনো কে.জি. স্কুল পাশ করতে পারলেন না।
-এক্সকিউজ মি!বড়ও বলছেন শিশুও বলছেন।I am not a baby! ok. আমি সামনের বৃন্দাবন স্কুল এন্ড কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।
-(ওরে,এই ছেলে গুলো এত গাধা হয় কেনো?)আসলে আমি বলতে চাচ্ছি, এই কে.জি.স্কুলের ছাতা আপনি চেন্জ করবেন কবে?
-ওও..তা বুঝিয়ে বলবেনতো।আসলে,যখন আমার একটা গার্লফ্রেন্ড হবে তখন, কেনো আপনার কোনো সমস্যা..?(মুচকি হাসি দিয়ে)
আগাম চিন্তা করে।ইশ,ছাতাটা আসলেই অনেক ছোট।একদম ছেলেটার গা ঘেষে পড়েছি।কিন্তু কোনো উপায়ওতো নেই, শূন্য ব্রিজ কোথাও একটু দাড়াবারও জায়গা নেই।এজন্যই মনে হয় ছেলেরা সিরাজ ছাতা ব্যবহার করতে চায় না।।ইশ,বৃষ্টিতো আরও বাড়ছে।মনে হচ্ছে এই ছাতা,বৃষ্টি সবকিছু আগে থেকেই প্লান করে রেখেছে।।
-কি ব্যাপার! কোলে এসে বসবেন নাকি?(ছেলেটি)
-আরে দেখছেন না বৃষ্টি বেড়েছে!(আমি)
-তা আমি কি করব?আপনার জন্যতো আমিই ভিজে যাচ্ছি।আজ আমার প্রথম ক্লাস এই কলেজে।
-মানে??
-মানে ঢাকা থেকে আমার বাবার চাকরীর ট্রান্সফার হয়েছে এই শহরে।তাই আমরা পরিবারসহ এই শহরে শিফট করেছি।আর আমি এই কলেজে ট্রান্সফার হয়েছি।
-ওও..
-এই ওও.. টা কি?
-এজন্যই আপনাকে এখানে নতুন নতুন লাগছে।
-ধ্যাত,সম্পূর্ণ যখন ভিজেই যাচ্ছি তখন আর দরকার নেই ছাতার! আপনি নিজেকেই বাচান।
-রেগে যাচ্ছেন কেনো?আমিতো এতক্ষন ধরে এটাই চাচ্ছিলাম।যেন আপনি ছাতাটা থেকে বেরিয়ে যান।আপনি কিন্তু ফরমালিটির হেব্বি পরিচয় দিয়েছেন।
-থাক,আর হাওয়া দিতে হবে না।
-হাওয়া ছি...
-ছি মানে,?মনে হয় শব্দটা আগে কখনও শুনেননি
-শুনেছি! কিন্তু বিচ্চিরি লাগে..
-থাক!আর বিচ্চিরি লাগাতে হবে না।বৃষ্টি থেমে গেছে।এবার, আমার ছাতাটা দিন।
-হুম..
-আরে,,,,এটা কি করেছেন?
-আমি কি করব বলুন!হঠাৎ করে জোরে বাতাস আসলো আর আপনার ছাতা আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সুইসাইড করল। তাও আবার এই খরস্রোতা নদীতে পরে!!ওকে বাচানো আর ইমপসিবল।।
-আপনি একটু শক্ত করে ধরে রাখতে পারলেন না??
-শক্ত করে-ই তো ধরে রেখেছিলাম।আরও কিছুক্ষন ধরে রাখলেতো আমাকে নিয়েই সুইসাইড করত!!
-ধ্যাত,জানিনা আজকের প্রথম দিনটা কলেজে কেমন যাবে!
-কেনো,,কেনো?
-আপনার সাথে যে দেখা হয়েছে তাই।প্রথমে ছাতায় ঢুকলেন,তারপর আমার মাথায়।ছাতা থেকে বের করলেন,ভিজালেন,আমার ছাতাও আপনার হাত থেকে রক্ষা পেলো না!
-চিন্তা করবেন না।be positive! don't be negative!আমি সব ঠিক করে দেব।
-কিভাবে?
-পরেরবার দেখা হলে আপনার ছাতার টাকা পেয়ে যাবেন।
-মাফ চাই,আমার টাকাও লাগবেনা,আর আপনার সাথে দেখাও করা লাগবে না।
-ঠিক আছে, বাই!
-ও..হ্যালো!আমার একটা ধন্যবাদ পাওনা আছে।
-মেয়েদের কাছ থেকে ধন্যবাদ শুনতে বেশ ভাল লাগে,তাইনা!!ওটা দিতে পারবোনা।পরবর্তীতে সব সুদে-আসলে ফেরত দিব।
-এই জন্যই আমি মেয়েদেরকে সাহায্য করি না।তবে মনে রাখবেন!এই ধন্যবাদ আপনাকে অনেক ভোগাবে।যদি আবার দেখা হয়।
-হুম..(ভেংচি দিয়ে)
সবকিছুই যেন উল্টো হয়ে গেল,কি ভাবলাম আর কি হল।ছেলেটাকে মনে করেছিলাম সাইড পার্টের নায়কের মতো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে,নিজেই সাইড পার্টের নায়িকাদের মতো আচরন করলাম।ধ্যাত,ক্লাস টাইম তো সবে মাত্র শুরু হল।যাই একটু আড্ডা দিয়ে আসি।অলওয়েজ লেট করা আমার একটা বিশেষ গুন।এই গুনের মাধ্যমেই ছেলেদের হয়তো একটু বেশিই কাবু করা যায়।যার জলজ্যান্ত প্রমান হলাম আমি।কিন্তু এই ছেলেটা আমার সাথে এরকম করলো কেনো?তাকে তো আমি দেখে ছাড়ব।
-May I come in mam?
-Yes, come in.
ওয়াও,ছেলেটাতো দেখি আমাদের বিভাগেই।
-হাই..
-ওহ,ইউ!!!
-হুম,আমি।তা নতুন ড্রেস কোথায় পেলেন।কারো কাছ থেকে ধার নিয়েছেন নাকি?
-নো,,,আমার কাছে অলওয়েজ এক সেট এক্সট্রা ড্রেস থাকে।
-তা তো বুঝলাম।কিন্তু চেঞ্জ করলেন কোথায়?ক্লাসেই কি সব খুলে ফেলেছিলেন নাকি!
-কি??? (জোরে শব্দ করে)
-এই ছেলে, কি হয়েছে তোমার।ক্লাসে ডিস্টার্ব করছো কেনো?(ম্যাম)
-সরি্য ম্যাম,আমি আসলে.....(ফিসফিস করে)
-কি হল,কথা বলছ না কেনো?আর তোমাকে তো এই ক্লাসে আগে কখনও দেখিনি!নাম কি তোমার?
-নাহিয়ান রহমান নাহিদ।ঢাকা থেকে টি.সি. নিয়ে এই কলেজে এসেছি।
-আর এসেই বাদরামি শুরু করে দিয়েছো! এটা তোমার ঢাকার কলেজ না।আর তার প্রমান এক্ষুনি তোমাকে দিচ্ছি।তুমি ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাও।
-কিন্তু ম্যাম!!
-নো এক্সকিউজ!জাস্ট লিভ দ্যা ক্লাসরুম।
এই ম্যামটা এমন কেনো?একটু শব্দ করল বলে ছেলেটাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার মানেটা কি?স্টুডেন্টরা কি শুধুশুধু বলে নাকি "টাইগার ম্যাডাম"।
-হ্যায়,ঈশিতা। কেমন আছো?
-জ্বি ম্যাম, ভাল আছি।
-তোমাকে তো দেখাই যায় না।
-কি করব ম্যাম, আপনিই-তো প্রতিদিন ক্লাস থেকে বের করে দেন।
-আজও তার ব্যাতিক্রম হচ্চে না!কারন,আপনি আগে কথা বলেছেন।
-আপনি দেখে ফেলেছেন ম্যাম!!!
-হুম..প্লিজ..
,
-ওও...হ্যালো! ওইটা আরেক ক্লাসের জায়গা(বারান্দা)।এখানে আসুন, এইটা আমাদের ক্লাসের জায়গা।(আমি)
-কিন্তু,ওখানেতো আপনি দাড়িয়ে আছেন।(নাহিদ)
-তো কি হয়েছে!আমরা তো একই ক্লাসের বাসিন্দা।
-এইটা যদি ক্লাস না হয়ে একটা দেশ হতো তাহলে আপনি হতেন আমার বিরোধীদল।আপনার ধারে কাছে আসার-তো প্রশ্নই ওঠে না।
-এই কে ওখানে!এত শব্দ করছে কে?(অন্য অন্য ক্লাসের স্যার)
-এইরে....মরেছি,কি হচ্ছে সকাল থেকে এসব আমার সাথে!!
-বুঝতে পেরেছেন তো।ইল-লিগেলভাবে কারো এলাকায় গিয়ে ক্ষমতা দেখানো যায় না।সেটা হোক রাষ্ট্র, এলাকা বা ক্লাসের বারান্দা।
-আপনার জন্য আমার নাম একের পর এক ব্লাক লিস্টে এন্ট্রি হচ্চে। অথচ আমার আগের কলেজে আমি ছিলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়।
-হয়েছে হয়েছে।আর নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে হবে না আমি বুঝতে পেরেছি।
-কচু বোঝতে পেরেছেন!জ্ঞানী লোকদের কথার মর্ম আপনি কি বুঝবেন।।
-ও হ্যালো,,আপনিতো এখানে নতুন।তাই আমার সম্পর্কে আপনার কোনো ধারনা নেই।যান পুরো কলেজে গিয়ে আমার নামে সার্চ মেরে দেখুন।আমি এখানে কত বড় ফেমাস সেলিব্রিটি।
-যাহ...ভাগ..
-কি!! আপনি আমাকে তুই বলে কথা বললেন!
-মাঝে মধ্যে এই রকম এক্সপ্রেশন দিতে হয়।তাহলে আপনার মতো যেসব মেয়েরা নিজেকে রানি ভিক্টোরিয়া মনে করেন তাদের মাইন্ড একটু কন্ট্রোলে আসবে।হুম..সেলিব্রিটি!!কেমন সেলিব্রিটি তা তো দেখলামই।এমন সেলিব্রিটির ক্লাসে জায়গা হয় না।
-শুনো,,এই ক্লাসের ফার্স্টসহ সারা কলেজের বেস্ট স্টুডেন্ট হলাম আমি।
-আর একথা কিনা আমাকেই বিশ্বাস করতে হবে!
-বিশ্বাস না করলে নাই।যাহ...ভাগ..
-হা....আমার ডায়লগ আমাকেই। ওকে..!
,,
-এই ঈশিতা, কিরে তুই আজও লেট ক্লাসে!(ঊর্মি,ক্লাস মেট)
-আরে ওটাতো ডাল-ভাত আমার জন্য, নো প্রবলেম।তোদের অবস্থা কি বল?
-ভালো,আচ্চা তুই কি ক্লাসের ঐ নতুন ছেলেটাকে দেখেছিস?
-দেখবনা কেনো,ইভেন আমিতো তাকে আমার প্রেমের জালে ফাসিয়েও নিয়েছি।
-কি বলছিস কি এসব তুই!তুই কি সত্যিই প্রেমে পরে গেছিস?
-আরে নাহ..এসব আলতু-ফালতু ছেলেকে আমি মন দিব নাকি।আমি যাকে মন দিব সে-তো হবে...
-গায়ক,একাধারে চিত্রশিল্পী,যে তোমাকে না দেখে তার মনের চোখ দিয়ে দেখে তোমার ছবি আকবে,আইনস্টাইন এর মতো বুদ্ধিমান।আর দেখতে হবে হৃতিক রোশনের মতো।
-হুম..আমার সাথে থেকে থেকে তোরও বুদ্ধির বাতি জ্বলে ওঠেছে।
-জানি জানি,এখন চিত্রকলা একাডেমিতে যাবি না!ছবি আকার প্রাকটিস করতে।
-হম..চল।

---দুইদিন পর---

-হাই!(নাহিদ)
-হ্যালো,কি ব্যাপার!সূর্য কি আজ পশ্চিমদিকে উঠল নাকি দেখিতো।(আমি)
-সূর্য তার ঠিক দিকেই উঠেছে।আপনি এই দুইদিন কোথায় ছিলেন?
-কেনো তা আপনাকে বলতে হবে কেনো?আপনি কি তাহলে আমাকে...
-দেখুন বেশি বুঝবেন না।আ.আমার ছাতার টাকার জন্য আমি আপনাকে খুজছি।
-হুহ...ছাতার টাকা!!টাকা নেই, পরে নিয়েন।
-তাহলে এই দুইদিন কোথায় ছিলেন?
-টাকা পরে দিব বলে কি আপনার সব প্রশ্নের উত্তর আমাকে দিতে হবে।
-হুম..দুইদিনে যা বুঝলাম, আপনি কখনও কলেজ বন্ধ দেন না।তাই আমার মনে হচ্ছে সেই দিনের ঘটনার জন্য আপনি আসেননি এই দুইদিন।
-লিসেন..আমার ব্যাপারে যখন এতই বোঝেছেন তাহলে এটা নিশ্চয়ই জানার কথা যে আমি এইসব বিষয় কখনও তোয়াক্কা করিনা।বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাস লেগেছিল গায়ে।জ্বর ছিলো দুইদিন।
-জ্বর!!বেশি ছিলো নাতো??
-আপনি এত কেয়ার দেখাচ্ছেন কেনো?
-আমার ছাতা!!এটা পরিশোধ করার পর আপনার যা ইচ্ছা হয়ে যাক।আই ডোন্ট কেয়ার।
-হুম..(ভেংচি দিয়ে)(আই ডোন্ট কেয়ার??তোর ছাতার টাকা জীবনেও পাবি না!!)
-হাই নাহিদ,কেমন আছো?(উর্মি)
-হাই,অনেক ভাল আছি।তুমি কেমন আছো?(নাহিদ)
-হ্যা ভালো আছি।
-ক্লাস টাইমে তুমি আমাকে পেছন থেকে খোচা দিলে কেনো?
-ওও,আসলে কালকের কেমিস্ট্রি এসাইনমেন্ট-টাতো তুমি করে দিয়েছিলে।কিন্তু,আজকে যে আরেকটা এসাইনমেন্ট দিলো।এটা কি করব।এসব বিক্রিয়াতো আমার মাথায়ই ঢুকে না।লিখব কি?
একে একে সালমা,রুবি,মৌসুমি ও ফামা এসে হাজির।
-আরে,আমাদেরও-তো একই অবস্থা।(সালমা)
-চিন্তা করো না বালিকারা,আমি একজনকে নোট করে দিব সবাই সেটা কপি করে নিবা।ওকে..(নাহিদ)
-আরে আমি কি মরে গেছি নাকি!এতদিন নোট করে দিতে পেরেছি,এখন পারবনা নাকি?(আমি)
-দোস্ত,আসলে আমরা তোর ভালোর জন্য এইসব করছি।তোর উপর থেকে কিছুটা চাপ সরে গেল।ভাল না?(মৌসুমি)
-ভাগ এখান থেকে...
মনে হচ্চে যেন বিল গেটস এর ছেলে এসেছে।সবাই একদম মাথায় করে নিয়ে ঘুরছে।
-কিরে,ঈশিতা।চিত্রকলা একাডেমিতে যাবি না?(সালমা)
-না, তোরা যা।আমার ভাল লাগছে না।তাছাড়া নতুন কোনো ছবিও পাইনি।
-ওকে,তোর তো না গেলেও চলবে।চিত্রকলার প্রায় সবধরনের চিত্রইতো তোর আকা শেষ।আমাদেরকে যেতে হবে।নাহিদ চলো।
-হ্যা,চলো।
নিজেকে কি মনে করে এই ছেলে।আমি কি তার কাছে কিছুই না!সেও স্মার্ট আছে,কিন্তু তার থেকেও অনেক স্মার্ট ছেলেরাও আমার পেছনে ঘুরে।আর এই ছেলে কি না আমাকে পাত্তা দেয়না!আমার সব বান্ধবিকেও তার দলে নিয়ে নিলো।ধ্যাত,এই দুইদিন যে কেন আসলাম না।

---পরের দিন---

কিছুই ভাল লাগছেনা।বান্ধবীরা সবাইতো ওই বাদরটাকে নিয়ে ব্যস্ত।আর যেচে কথা বলা আমার ডিকশনারীতে নেই।খাতায় ছবি আকি এটাই ভাল হবে।
-আসসালামুআলাইকুম!(নাহিদ)
-ওয়ালাইকুমআসসালাম!(আমি)
-কি করছেন?
-মুড়ি খাচ্চি, খাবেন!
-খাওয়ালো ভালোই হতো,আমার ছাতার টাকা কিছুটা উসুল হতো।
-এই নিন দুইটাকা,আমার খাওয়া তো শেষ।আপনি কিনে খেয়ে নিয়েন।
-মানে,!এই কোথায় যাচ্ছেন?দাড়ান দাড়ান বলছি।
যাক,ভাল শিক্ষা দিয়েছি।আমাকে কি আট দশটা মেয়ের মতো মনে করে নাকি যে আমি তা পিছু পিছু ঘুরব।
ক্লাস টাইম শেষে..
-হাত দুইটা ছয় ফুট প্রসস্থ করে দাড়িয়ে আছে নাহিদ।
-কি হলো,পথ আগলে দাড়িয়ে আছো কেনো?
-তুমি আমাকে দুইটাকা দিলে কেন?
-মুড়ি কিনে খাওয়ার জন্য!
-মুড়ি কিনে খাওয়ার জন্য দুইটাকা!জানো, তুমি দুই টাকা দিয়েছো বলে ক্লাসের সবাই মিলে কি করেছে।
-কি করেছে?
-সবাই আমাকে ভিক্ষুক বলে বলে এইযে দেখো পাঁচশ টাকা অলরেডি দান করে ফেলেছে।
-হাহহাহহাহহাহহা....খুব ভালো করেছে। আপনার ছাতার টাকাতো উসুল হয়ে গেল।কি চমৎকার গুন আমার দুইটাকার
-হাসবেন না।হাসবেন না।আমার ছাতা আপনি হারিয়েছেন,তাই টাকাটা আপনিই দিবেন।
-বেশ করেছি হারিয়েছি।আমার যখন মন চাইবে তখন টাকা দিব।হুম..(ভেংচি দিয়ে)
-মানে!! শুনুন শুনুন...
ডেকে ডেকে মরে যাক।আমি শুনব না।
এভাবেই চলতে থাকে।ও প্রতিদিন ছাতার জন্য আমার কাছে আসে।আমার ছেলে বন্ধু তেমন একটা নেই।আর সকল বান্ধবীরা নাহিদকে নিয়ে ব্যস্ত।বান্ধবীদের সাথে কথাবার্তা হয় কিন্তু তেমন একটা না।তাই নিজেকেও অনেক শান্ত মনে হয়।সেই চঞ্চলতা অনেকটা হারাতে বসেছে।চার মাস কেটে গেল এভাবেই।আর আজ আমার মনটা আরো বেশি খারাপ।কারন, আজ আমাদের টেষ্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে।বিষয়টা এই না যে আমি পরীক্ষায় খারাপ করেছি,কিন্তু আমাদের দুজনেরই পার্সেন্টেজ ৯৮%।আরেকটু ভাল পরীক্ষা দিলে হয়তো তার আগে থাকতাম।বাকি দিনগুলো নিজের কর্তৃত্ব আবারও চালিয়ে যেতে পারতাম।হাহ...এখন আর কিছু করার নেই।
-এই যে শুনুন।(আমি)
-জ্বি ম্যাডাম বলুন।(নাহিদ)
-এই নিন আপনার ছাতার টাকা।
-মানে!!
-মানে,আপনার সব ঋণ পরিশোধ।
-তার মানে কি, আমাদের মধ্যে আর কখনও কথোপকথন হবে না?
-
------ইন্টারভেল------
-
[বি:দ্র:ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল]

0 Comments Here
Authentication required

You must log in to post a comment.

Log in
Related Post
শিউলি পরীর..
শিউলি পরীর দেশে রুপকথার গল্প

হাপিত্যেশ করে দাঁড়িয়ে থাকে, শিউলি ফুলের গাছটা, গলিটার মােড়ের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে । খা খা দুপুরে..


StorialTechছোটদের গল্পঃ রাজার ছেলের সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে
ছোটদের গল্পঃ রাজার ছেলের সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে

এক

রাজার ছেলে মােহনলাল স্বপন দেখে ঘুম থেকে উঠেছে, কৃষ্ণপুর রাজ্যের রাজকন্যা ময়নামতী যেন তাকে বিয়ে..


ভালোবাসার মিস্টি..
ভালোবাসার মিস্টি গল্প

-- ইয়াক এটা কি পরেছিস? শয়তানের মত দেখাচ্ছে একদম
-- মানে? কি সমস্যা? ঠিকি তো..